আ ওয়াক টু রিমেম্বার

বিবাহ প্রথার প্রচলনের সময় থেকেই ব্যাঙ্গাত্মক তুলনাটি চলে আসছে. একটু বেশি সাজগোজ করলেই পরিচিতমহলের অনেকেই খোচা দিয়ে জানতে চায় আজকে কি বিয়ে নাকি? অথবা প্রশংসার মিছরি ছোরা আসে এভাবে যে, আজকে নাকি একদম জামাইয়ের মতন লাগছে. সুতরাং প্রবণতা গণিতের ফলাফল আসে যে পরিনয় যজ্ঞ সম্পাদনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে ‘সাজপোশাক’. তাই যেখানে শুধু আয়োজন আর প্রয়োজনের খরচের খতিয়ান বিয়ের সংশ্লিষ্ট অর্থনীতির গ্রাফকে উস্কে দিচ্ছে, সেখানে কনের বেনারসী আর নওশের আংরাখার ক্যাশ মেমোর অংশগ্রহন, ইটস এ মাস্ট. আর সাথে ভ্যালু এডিশনের জন্যে করা গর্জেস মেকভারের সাথেও কিন্তু এখন যোগ হয় ভ্যালু এডিশনাল ট্যাক্স(vat). তাই এখানেও অর্থ এবং নীতি এই দুয়ের পরিনয়.
ফ্যাশন হাউসগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে সাধারণের স্টাইল বিষয়ক সচেতনতা. আর বিয়ের মৌসুমগুলোতে রেগুলার ক্লোদিন্গের সাথে স্টোর গুলোতে চাহিদা থাকে ব্রাইডাল এটায়ার অর্থাত বিয়ের পোশাকের. ডিজাইনার শাড়ি, ঘাগরা, লেহেঙ্গা, শেরোয়ানি, পাঞ্জাবি, স্যুট, ড্রেস প্যান্ট এবং সব কিছুর জন্যে একসেসরিস সহ তাই অতিরিক্ত আয়োজনও করতে হয় ফ্যাশন প্রডাকশন হাউস গুলোকে. আর এর সাথেই সামগ্রিক অর্থনীতিতে বাড়তে থাকে প্রভাব. বিশেষ করে ফ্যাব্রিক, থ্রেড, টেইলর, অরনামেনটেশন, প্রিন্টিং সহ ফ্যাশন প্রডাকশন কার্যে জড়িত সকল উপকরণ এবং কাজের সাথে জড়িত থাকে অর্থ ও রাজস্ব. আর বিয়ের মৌসুমের ক্লদিং প্রস্তুতি ধর্মীয় উত্সব থেকে খুব একটা কম হয়না. সুতরাং কাপড় উত্পাদনকারী থেকে শুরু করে ফ্যাশন স্টোর পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপেই পড়ে কাজের অতিরিক্ত চাপ. যার ফলে অতিরিক্ত উপার্জন এবং বাড়তি ব্যবসার সম্ভাবনা থাকে প্রচুর. এবং এই বাড়তি পোশাক আয়োজন শুধু বর-কনের পোশাককে ঘিরে থাকেনা. বরং সম্প্রসারিত হয় আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব এবং অতিথিদের পোশাক পর্যন্ত. বিয়ের নিমন্ত্রণ রক্ষায় নতুন পোশাক পড়তে চান না এমন উদাসীন কয়জনই আছে বলুন.
পোশাক চাহিদার ব্যাপারটি আসলে বিয়ের সময় মৌলিক বস্ত্র চাহিদার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়. এবং তার সাথে সমান্তরাল বা ব্যক্তি বিশেষে অগ্রগামী হিসেবে বাড়ে গহনার চাহিদা. আর স্বর্ণ নামক ধাতুর সাথে দেশীয় অর্থনীতির সম্পর্ক বেশ পরিপূরক. এবং ক্রয়কৃত স্বর্ণ সম্পদের অংশ হিসেবে বিবেচ্য হওয়াতে ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থারও ঘটে পরিবর্তন. হর-হামেশাই আমরা পত্র পত্রিকায় অবশ্য দেখি স্বর্ণের দামের বৃদ্ধির কারণে কি পরিমান টেনশন বাড়ছে. তবে বিয়ের মৌসুমে স্বর্ণ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অনেক খানিই পাক খেতে হয় বিয়ে অর্থনীতির চাকা কে. অবশ্য শুধু স্বর্ণ নয়, বাকি ধরনের গহনা এবং ধাতুর বাজারেও এসময় লেগে থাকে ভোক্তা এবং ক্রেতাদের ভিড়. বিয়ের ঐচ্ছিক প্রথা অনুযায়ী প্রদেয় গহনা, উপহার হিসেবে গহনা এবং পোশাকের মত অনুষ্ঠান উপলক্ষে অতিথিদের ক্রয়কৃত গহনা মিলিয়ে তাই বেশ বড় অঙ্কের গহনা বিষয়ক আর্থিক লেনদেন ঘটে বিয়ের মৌসুমকে কেন্দ্র করে.
গহনা, পোশাক কেনার পরেও আসলে আপনি বাজেট ফাইল ক্লোস করতে পারবেন না. এই আধুনিক সময়ে পোশাক এবং গহনা পরিয়ে কনে রূপে সাজিয়ে দেবার জন্যেও রয়েছে সালন সার্ভিস. যেখানে বিয়ের সাজের পাশাপাশি পরিনয় পূর্ব রূপ চর্চারো ব্যবস্থা থাকে নির্ধারিত চার্জের বিনিময়ে. এবং এই মেকওভার প্রক্রিয়াতে জড়িত থাকে বিউটি ইন্ডাস্ট্রির নানান দিক গুলো. বিউটি প্রডাক্ট, সার্ভিস চার্জ, সালন মেইন্তেনেন্স মিলিয়ে এই প্রক্রিয়াতেও রয়েছে অর্থ বিষয়ক বিভিন্ন সংশ্লিষ্টতা. বিউটি ইন্দ্রাস্তিয়ালিস্টদের মতে একটি স্ট্যানডার্ড বিউটি সালোনের(ব্রাইডাল সার্ভিস সহ) বার্ষিক টার্ন ওভার বিয়ের মৌসুমে বাড়তে পারে ২০ শতাংশ পর্যন্ত. এমনকি যাদের শুধু ব্রাইডাল মেকওভার সাধারণের কাছে জনপ্রিয় তাদের এই টার্ন ওভার বাড়তে পারে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত. এবং অবশ্যই এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত প্রডাক্ট, সার্ভিস এবং বানিজ্যিক দিক গুলো. এবং সব কিছুই দায় বদ্ধ রাজস্ব এবং করের বিভাগে. সুতরাং বিয়ের সাজ পোশাককে নিয়ে অর্থনীতিতে রয়েছে একটি বড় অধ্যায়. যাকে আমরা বলতে পারি ইকনমি অফ গ্ল্যামার.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *